Friday 24th of May 2024

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম উপায় বাবা-মাকে সন্তুষ্টি করা

Daily Bangladesh Tribune »

বাবা-মায়ের মাধ্যমে মানুষের এ পৃথিবীতে আগমন। অতএব পিতা-মাতার তুল্য হিতৈষী, পরম শ্রদ্ধাভাজন গুরু আর কেউ নেই। পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য পালন যে কত গুরুত্বপূর্ণ, তার প্রমাণ মানব জীবনের অখণ্ডনীয়-দলীল পবিত্র কোরআন এবং মানব আদর্শের প্রতীক বিশ্বনবী (সা.)-এর হাদিস থেকে প্রমাণিত।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন ‘আর তোমার প্রভু নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত করবে না। মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণ করবে। তোমার জীবদ্দশায় যদি তাদের যে কোনো একজন বা উভয়জন বার্ধক্যে উপনীত হন তখন (তাদের কোনো কথায় বা আচরণে বিরক্ত হয়ে) উফ শব্দটিও বলো না। তাদের ধমক দিও না। বরং তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করো। তাদের সামনে দয়াবনত হয়ে বিনয়ের বাহু বিছিয়ে দাও। আর তাদের জন্য এ বলে দোয়া করো, হে প্রভু আপনি তাদের প্রতি দয়া করুন যেমন তারা আমাকে দয়া দিয়ে লালন পালন করেছেন।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ২৩-২৪)।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল (সা.) একদা তিনবার বললেন, তার নাসিকা ধুলোয় ধুসরিত হোক! সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি কার ব্যাপারে এসব বদ দোয়া করছেন? রাসূল (সা.) বললেন, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা উভয়কে অথবা যে কোনো একজনকে বার্ধক্যে উপনীত অবস্থায় পেল তবুও সে (তাদের খেদমত করে) জান্নাতের পথ সুগম করতে পারল না’ (মুসলিম : ২৫৫১)।

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সন্তানের জীবনে মা বাবার প্রভাব সর্বাপেক্ষা বেশি। সন্তান জন্মাবার পূর্ব থেকেই বাবা-মা সার্বিক প্রস্তুতি নেন।

সন্তানকে বড় করে তোলার জন্য তাদের এক শাশ্বত কামনা ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে।’ সন্তানের জন্য সার্বিক ক্ষেত্রেই বাবা-মার উৎকন্ঠার শেষ নেই! এজন্যই বাবা-মার প্রতি সন্তানের সীমাহীন কর্তব্য। তাদের ঋণ শোধের নয়। তাদের পূর্ণ সন্তুষ্টির দিকে সর্বদা মনোযোগ দিতে হবে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘আমি মানুষকে পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছি’ (সুরা আন কাবুত, আয়াত: ৮)।

হাদিসে রয়েছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে খোদার সন্তুষ্টি এবং পিতা-মাতার অসন্তুষ্টিতে খোদার অসন্তুষ্টি নিহিত’ (তিরমিজি)।

এমনকি পিতা-মাতা বিধর্মী হলেও তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার বজায় রাখতে হবে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) বলেন, কুরাইশদের সঙ্গে সন্ধির দিনে আমার মা মুশরিক অবস্থায় আমার কাছে এলেন। আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞেসা করলাম, আমি কি তার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করব?রাসূলুল্লাহ (সা.) উত্তরে বললেন, হ্যাঁ, সদ্ব্যবহার কর, (বোখারি)।

এ কারণেই হাদিসে এসেছে, হজরত আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলেন, সন্তানের ওপর পিতা-মাতার হক কী? উত্তরে বিশ্বনবী (সা.) বললেন, তারা উভয়েই তোমার জান্নাত অথবা জাহান্নাম। অর্থাৎ যারা পিতামাতার প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে, তারা সফলকাম। আর যারা তাদের অবাধ্যতায় লিপ্ত হবে তাদের জন্য লাঞ্ছনা।

আমাদের সবার উচিত পিতামাতার সেবায় নিয়োজিত থাকা। তাদের জন্য সব সময় দোয়া করা। আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে বাবা-মার জন্য বিশেষ ৩টি দোয়া উল্লেখ করেছেন। বাবা জীবিত থাকুক আর না থাকুক, তাদের জন্য সব সময় কোরআনে বর্ণিত দোয়াগুলো জরুরি। এ সব দোয়ায় আছে নিজেদের জন্য কল্যাণ পাওয়া ঘোষণা। তাহলো-
১. رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
উচ্চারণ : ‘রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা।’
অর্থ : (হে আমাদের) পালনকর্তা! তাদের উভয়ের প্রতি দয়া কর; যেভাবে তারা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন।’ (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত ২৪)

২. رَبَّنَا ٱغْفِرْ لِى وَلِوَٰلِدَىَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ ٱلْحِسَابُ
উচ্চারণ : ‘রাব্বানাগফিরলি ওয়ালিওয়ালিদাইয়্যা ওয়া লিলমুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।’
অর্থ : ‘হে আমাদের রব! যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন আপনি আমাকে, আমার বাবা-মাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা করে দেবেন।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৪১)

৩. رَّبِّ ٱغْفِرْ لِى وَلِوَٰلِدَىَّ وَلِمَن دَخَلَ بَيْتِىَ مُؤْمِنًا وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَٱلْمُؤْمِنَٰتِ وَلَا تَزِدِ ٱلظَّٰلِمِينَ إِلَّا تَبَارًۢا
উচ্চারণ : ‘রাব্বিগফিরলি ওয়ালিওয়ালিদাইয়্যা ওয়া লিমান দাখালা বাইতিয়া মুমিনাও ওয়া লিলমুমিনিনা ওয়াল মুমিনাত ওয়া লা তাযিদিজ জ্বালিমিনা ইল্লা তাবারা।’
অর্থ : ‘হে আমার রব! আমাকে, আমার বাবা-মাকে, যে আমার ঘরে ঈমানদার হয়ে প্রবেশ করবে তাকে এবং মুমিন নারী-পুরুষকে ক্ষমা করুন আর আপনি জালিমদের ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই বাড়িয়ে দেবেন না।’ (সুরা নুহ : আয়াত ২৮)

বাবা-মার জন্য সাদকায়ে জারিয়া করাই উত্তম। তা হতে পারে- পানির কুপ খনন করা, (নলকুপ বসানো), দ্বীনী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা, কুরআন শিক্ষার জন্য মক্তব ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করা, স্থায়ী জনকল্যাণমূলক কাজ করা ইত্যাদি কাজ করা।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আল্লাহ ও তার রাসূলের শিক্ষা অনুসারে জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন, আমিন।

Write Your Comment Here

Comments are closed.